লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে আইফোন চুরির অপবাদ দিয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্রাবাসে মেহেদী হাসান নামের এক আবাসিক শিক্ষার্থীকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) নিহত ওই শিক্ষার্থীর বাবা জিয়া উদ্দিন বাদী হয়ে রামগঞ্জ থানায় এই হত্যা মামলাটি দায়ের করেন।
মামলার এজাহারে ৮ জনের নাম উল্লেখ করাসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৯ থেকে ১০ জনকে আসামি করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, রামগঞ্জ উপজেলার ফরিদ আহমেদ ভূঁইয়া একাডেমির অষ্টম শ্রেণির ছাত্র মেহেদী হাসানকে আইফোন চুরির অপবাদ দিয়ে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করা হয়। একপর্যায়ে সে গুরুতর অসুস্থ হয়ে মারা যায়। পরে এটিকে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়।
নিহতের বাবা জিয়া উদ্দিন বলেন, "আমার ছেলেকে চুরির অপবাদ দিয়ে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে। আমি জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও সর্বোচ্চ শাস্তি চাই।"
এর আগে গত মঙ্গলবার বিকেলে একাডেমির ছাত্রাবাস থেকে মেহেদীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরিবারের পক্ষ থেকে হত্যার অভিযোগ ওঠার পর এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।
ওইদিন রাত ৮টা থেকে ১২টা পর্যন্ত বিক্ষুব্ধ জনতা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটিতে ভাঙচুর চালায়। পরবর্তীতে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
বুধবার বিকেলে মেহেদীর মরদেহবাহী ফ্রিজার ভ্যান নিয়ে থানার সামনে অবস্থান ও বিক্ষোভ করেন স্বজন এবং এলাকাবাসী। ময়নাতদন্ত শেষে বৃহস্পতিবার বিকেলে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।
এদিকে, অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে ফরিদ আহমেদ ভূঁইয়া একাডেমি সাত দিনের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ।
বৃহস্পতিবার দুপুরে রামগঞ্জ সরকারি কলেজ গেট এলাকায় শিক্ষার্থী হত্যার বিচার এবং অধ্যক্ষের অপসারণ দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।
রামগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফিরোজ উদ্দিন চৌধুরী জানান, নিহত শিক্ষার্থীর বাবার দায়ের করা হত্যা মামলাটি পুলিশ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করছে।
তিনি আরও জানান, এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করা সম্ভব না হলেও জড়িতদের ধরতে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে। ময়নাতদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।

ডেস্ক রিপোর্ট